আমাদের কথা
দক্ষিনাঞ্চলের বন্যা ও নদী ভাঙ্গন উপদ্রুত, মঙ্গা ও দারিদ্রপীড়িত, কৃষি প্রধান অতি সম্ভাবনাময় পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা। স্বাধীনতা পর হতে উন্নয়নের দিক থেকে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় কাউখালী উপজেলা পশ্চাৎপদ। উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে যোগাযোগ। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যুগে বিশ্ব এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে।
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে তথ্য প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে আমার সহকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি ওয়েবসাইট চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কাউখালী উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন হতে প্রতিবছর এখানে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার জন্য আসে এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়ন করে বেরিয়ে যায়। কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার নেয়ার পর থেকেই একটি ওয়েবসাইট খোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি, যাতে সরকার কর্তৃক গৃহীত e-governance এর পদক্ষেপসমূহের সাথে ত্বরিৎগতিতে সম্পর্কিত হওয়া যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেউন্দিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি। পরিকল্পনা মোতাবেক এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য কেউন্দিয়া ভিত্তিক ওয়েবসাইট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কনসেপ্ট ইনোভেটিভ কম্যুনিকেশন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় শুরু হয় সাইটটির নির্মাণ কাজ। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা ও পরামর্শ আমাদের প্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছে।
আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার সহকর্মীদের, ওয়েবসাইট নির্মাণে যাঁরা তথ্য সংগ্রহ এবং আন্তরিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করে সফলভাবে এর কাজ সম্পন্ন করেছেন। ধন্যবাদ জানাই, ওয়েবসাইট নির্মান সংশ্লিষ্ট কমিটিকে যাঁদের নিরলস শ্রম আর তারুন্যদীপ্ত পদক্ষেপের কারণে সাইটটি চালু করা সম্ভব হয়েছে।
এ ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য হলো, তথ্য প্রাপ্তি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন প্রকার তথ্য প্রাপ্তি ও সরকার প্রদত্ত সকল সেবা শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। কম সময়ে এরকম একটি উদ্যোগকে সফল করতে গিয়ে তথ্যবিভ্রাট এবং নানা ধরণের ত্রুটির সম্ভাবনা থেকেই যায়। সে কারণে এই ওয়েবসাইটটিকে সময়ের সাথে সাথে আপডেট করা, তথ্যভ্রান্তি দূর করে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ করার দায়িত্ব আমাদের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এ কাজে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পাবো। যে কোনও ধরণের ইতিবাচক পরামর্শ, মন্তব্য অথবা তথ্য সংশোধনী সাদরে গ্রহণ করা হবে। আমি বিশ্বাস করি, এই ওয়েবসাইট নি:সন্দেহে দেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে একটি নতুন মাত্রা সংযোজন করবে। ওয়েবসাইটটিতে তথ্য সংযোজনের ক্ষেত্রে অপ্রতুলতা থাকতে পারে।
আপনাদের সহযোগিতা ও মূল্যবান পরামর্শ নিয়ে আমরা এই সীমাবদ্ধতা অতি অল্প সময়েই কাটিয়ে উঠতে পারবো বলে আমি মনে করি।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
সামগ্রিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- মূল্যবোধভিক্তিক শিক্ষার প্রসার;
- চাহিদা মাফিক ও চাকুরির যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষা;
- পাঠ্যক্রম-এর আধুনিকায়ন
- সকল স্তরে ব্যবস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়ন;
- তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদারকরণ;
- সকল স্তরে শিক্ষকদের কাযকারিতা নিশ্চিতকরণ;
- জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণ।
শিক্ষার সাধারণ উদ্দেশ্য:
- ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকল্পে শিক্ষার্থীদের মননে, কর্মে ও ব্যবহারিক জীবনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে তোলা ও তাদের চিন্তা-চেতনায় দেশাত্ববোধ, জাতীয়তাবোধ এবং তাদের চরিত্রে সুনাগরিকের গুণাবলির যেমন: ন্যায়বোধ, অসাম্প্রদায়িক-চেতনাবোধ, কর্তব্যবোধ, মানবাধিকার সচেতনতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, শৃঙ্খলা, সৎ জীবনযাপনের মানসিকতা, সৌহার্দ্য, অধ্যবসায় ইত্যাদি বিকাশ ঘটানো।
- জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারা বিকশিত করে প্রজন্ম পরম্পরায় সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা।
- দেশজ আবহ ও উপাদান সম্পৃক্ততার মাধ্যমে শিক্ষাকে শিক্ষার্থীর চিন্তা-চেতনা ও সৃজনশীলতার উজ্জীবন এবং তার জীবনঘনিষ্ঠ জ্ঞান বিকাশে সহায়তা করা।
- দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধনের জন্য শিক্ষাকে সৃজনধর্মী, প্রয়োগমুখী ও উৎপাদন সহায়ক করে তোলা; শিক্ষার্থীদেরকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশে সহায়তা করা।
- জাতি, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে আর্থসামাজিক শ্রেণি-বৈষম্য ও নারী পুরুষ বৈষম্য দূর করা, অসাম্প্রদায়িকতা, বিশ্ব-ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানুষে মানুষে সহমর্মিতাবোধ গড়ে তোলা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা।
- বৈষম্যহীন সমাজ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী স্থানিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য শিক্ষা লাভের সমান সুযোগ-সুবিধা অবারিত করা। শিক্ষাকে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পণ্য হিসেবে ব্যবহার না করা।
- গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ বিকাশের জন্য পারস্পরিক মতাদর্শের প্রতি সহনশীল হওয়া এবং জীবনমুখী বস্তনিষ্ঠা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশে সহায়তা করা।
- মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে বিকশিত চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং অনুসন্ধিৎসু মননের অধিকারী হয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিসত্মরে মানসম্পন্ন প্রামিত্মক যোগ্যতা অর্জন করতে পারে তা নিশ্চিত করা।
- বিশ্বপরিমন্ডলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে ও বিষয়ে উচ্চমানের দক্ষতা সৃষ্টি করা।
- জ্ঞানভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর (ডিজিটাল) বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং সংশিষ্ট অন্যান্য (গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি) শিক্ষাকে যথাযথ গুরত্ব প্রদান করা।
- শিক্ষার্থীদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনসহ প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ-সচেতনতা এবং এতদসংক্রান্ত বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা।
- দেশের আদিবাসীসহ সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সংস্কৃতি ও ভাষার বিকাশ ঘটানো।
- সব ধরনের প্রতিবন্ধীর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা।
